ঝিনাইদহে মাটি খেকোদের মাটি কাটার হিড়িক

News from jhenaidah

ঝিনাইদহে নদ-নদী সরকারি খাল বিলের মাটি কাটার হিড়িক পড়ে গেছে। চড়া দামে ইটভাটা গুলোতে সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে । পরিবেশ ও গ্রাম্য সড়ক গুলো মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে গৃহহীন হচ্ছে হজারো মানুষ।

গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট । লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরছে তারা। প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটে চলেছে এসব ঘটনা। কিছুতেই বন্ধ হচ্ছেনা অবৈধ মাটির ব্যবসা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে ট্রলিতে বোঝায় করা হচ্ছে। মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত পক্ষে ৪টি ট্রলি।

মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঘটনাস্থলের কাছের দুইটি ইটের ভাটায়। জেলা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পশ্চিমে ফকিরাবাদ গ্রাম। এর আগে একই খাল থেকে শত শত ট্রাক মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। অল্প কিছুদিন এ ব্যবসা বন্ধ ছিল।

শুক্রবার সকাল থেকে আবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের সরকারি খালের মাটি কেটে বিক্রি করা শুরু করা হয়। সিন্ডিকেটের স্থানীয় প্রধান উজ্জ্বল ও মিঠু দাবি করেছেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা র্নির্বাহী অফিসারের অনুমতিক্রমে ফের মাটি কেটে বিক্রি শুরু করেছে তারা।

তাদের সাথে কথা বলার সময় মাটি কাটার দৃশ্য ধারণকালে মোবাইল করা হয় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছে। কিছু সময় পরে লুঙ্গি পরে এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রকাশ্যে চিৎকার করে মাটি কাটার নির্দেশ দেয়। আবারো ধুমছে মাটি কাটতে থাকে সিন্ডিকেট সদস্য উজ্জ্বল ও মিঠু গ্যং।

এসময় কথা হয় তাদের সাথে। তারা জানায় প্রতি ট্রলি মাটি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় স্থানীয় দুইটি ইটের ভাটায় নিয়মিত বিক্রি করে আসছে।

তাদের দাবি অনুমতি নিয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিক্রির কিছু টাকা স্যারকে দিয়ে তাকে তারা (সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার)। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বার্হী অফিসার এস.এম শাহীন জোরালো ভাবে মাটি ব্যবসায়ীদের দাবী অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, মাটি কাটা কিংবা বিক্রি জন্য কাউকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সরকারি খাল কিংবা নদীর মাটি কেটে ইটের ভাটায় বিক্রি করা দন্ডনীয় অপরাধ বলে জানান তিনি।

তিনি আরো (নির্বাহী অফিসার সদর উপজেলা) বলেন, ইতিমধ্যে ফকিরাবাদ খালের মাটি কাটার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ মোঃ মজিবর রহমান বলেন জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উল্লেখ্য, ক্রমেই জেলা ব্যাপী গড়ে উঠা মাটির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অবৈধ ভাবে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে তারা।

নানা কৌশলে নবগঙ্গা, বেগবতি, চিত্রা, কপোতাক্ষ সহ বিভিন্ন নদ-নদীর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। মাটির ট্রলি গুলো গ্রাম গঞ্জ জেলা শহর দাপিয়ে বোড়াচ্ছে। প্রতিনিয়তই ইটভাটার মাটির ট্রলি চাপায় প্রাণ যাচ্ছে পথচারি শিশু কিশোর স্কুল ছাত্রের।

জেলা জীব বৈচিত্র ও পরিবেশ সংরক্ষন কমিটি, নদী রক্ষা কমিটিসহ নানা সামাজিক সংস্কৃতিক সংগঠন নদ-নদী সরকারি খালের মাটি কাটা ও বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। অথচ আজো মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

তরিকুল ইসলাম তারেক,ঝিনাইদহ