জরাজীর্ণ স্কুলে পাঠদানে আতঙ্কে কোমলমতি শিশুরা

Rangabali News

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে মধুখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় টিনের দোচালা ঘর জরাজীর্ণ হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি কিংবা টিনের চালার ফাঁকফোকর দিয়ে রোদের প্রখর তাপ থেকে রেহাই পায় না টিনশেড কক্ষগুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।

হালকা ঝড়ো বাতাসে দোলতে থাকে বিদ্যালয়ের টিনশেড এর কক্ষ, আতঙ্কে থাকেন ওই স্কুলের ১৮০ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়টি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মধুখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি চার কক্ষ বিশিষ্ট, টিনশেডের একটি লাইব্রেরি এবং বাকি তিনটি শ্রেণিকক্ষ থাকায় দুই শিফ্টে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করানো হয়।

শেণিকক্ষের সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠ দান। করোনা পরিস্থির কারনে এখন বিদ্যালয় বন্ধ। সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে। তখন থেকে শিক্ষার্থীদের আবারও এই জরার্জীর্ণ টিনশেড ঘরেই ক্লাশ করতে হবে।
বিদ্যালয়সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টিত হয়েছে। ২০১৩ সালের ১লা জুলাই দ্বিতীয় ধাপে এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের অন্তর্ভূক্ত হয়। যা ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে খসড়া গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
রাঙ্গাবালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর কার্যালয় (এলজিইডি) তথ্য মতে, বিদ্যালয়টি নতুন ভবন নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পিডিবি-৪ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এখনো ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যায় নাই। অনুমোদন সাপেক্ষে ওই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদ মাহামুদ বলেন, আমাদের ক্লাশ করতে অনেক সমস্যা হয় গরমের দিনে গরম আবার বৃষ্টির দিনে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। একটা বিল্ডিং থাকলে ক্লাশ করতে অনেক সুবিধা হতো।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া বলেন, ‘সামান্য বাতাসেই দোলতে থাকে বিদ্যালয়ের টিনশেড শ্রেণীকক্ষ।

প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে চলে প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়া। পাঁকা ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে নিরাপদ পানির জন্য একটা গভীর নলকুপ স্থাপনা করা খুবই জরুরী।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সবুজ মিয়া বলেন, ‘এলজিইডি থেকে ২০১৯ সালে সয়েল টেষ্টের জন্য আসছিল। প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করা খুবই জরুরী। কারন প্রতিষ্ঠানটির টিনশেড ঘরটি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় দুই শিফ্টে ক্লাশ নিতে হয়। যারফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে ব্যাহত হয়। এছাড়া বাথরুম ও নিরাপদ পানির সু-ব্যবস্থাও নাই। যারফলে ছাত্র-ছাত্রীদের সব সময় পরতে হয় ভোগান্তিতে। এছাড়া করোনার পরে স্কুল খোললেও একই সমস্যায় পড়তে হবে স্কুলটির ছাত্র-ছাত্রীদের।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মধুখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁকা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্টদের প্রেরণ করা হয়েছে। ভবন নির্মানের জন্য আমি দ্রুত খোজ খবর নেবো।’

রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ জহির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টিতে একটি বহুমূখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মান করা জরুরী। ভবন নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করবো।’
মাহমুদ হাসান,রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap