ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়,থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ মায়ের

opohoron

গাজীপুরের জয়দেবপুর সদর থানার কাউলতিয়াস্থ জোলারপাড় গ্রামে পূর্ব বিরোধর জের ধরে মো. মিজানুর রহমান (২৭) নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মারধর ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ৯৬ হাজার টাকা মুক্তিপণ হাতিয়ে নিয়েছে এলাকার চিহ্নিত দূস্কৃতকারী চক্র।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর তদন্তের নামে বার বার অফিসার বদল করে সত্যতা পেলেও জয়দেবপুর থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা নিচ্ছে না বলে দাবী করেছেন অপহৃত’র মা মোছা. মিনারা বেগম।

মোছা. মিনারা বেগম জানান, আমার ছেলে মো. মিজানুর রহমান (২৭) আমার নিজ বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশে একটি ডেউরী ফার্ম ও মৎস খামার পরিচালনা করে থাকে। গত গত ৫ এপ্রিল- ২০২১ ইং দুপুরে আমার ছেলে তার মোটর বাইক মেরামত করার জন্য ভীমবাজারস্থ সাইফুল ওয়ার্কসপ নামের একটি গ্যারেজে গেলে পূর্ব বিরোধের জেরে পার্শ্ববর্তী কাউলতিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শহিদুল্লাহ’র ছেলে মো. রেজাউল (৪০) ও মো. সাইফুল ইসলাম (২৮) এর নেতৃত্বে ওই এলাকার মো. সোহেল (২৭), মো. কামরুল (৩৫), ও মো. রুবেল (৩০)সহ আরো কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে এবং সূ-কৌশলে মিজানকে আটক করে গ্যারেজের পিছনে নিয়ে এলাপাথারী ভাবে বিদ্যুতের তার ও কুদালের আচারী দিয়ে বেদম মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত করে এবং এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে।
পরে তারা আমার ছেলেকে ওই গ্যারেজ থেকে ধরে বাউপাড়া গ্রামে সাইফুলের ফুফু রাবেয়ার বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকিয়ে মারধর করে মুক্তিপণ হিসেবে পকেটে থাকা নগদ ৩৩ হাজার এবং বিকাশে থাকা ১৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। সে সময় তারা বাকি টাকা আদায় করতে আমার ছেলেকে হত্যার ভয় দেখিয়ে লোক মারফত আমার কাছ থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ছেলে প্রাণ রক্ষার্থে ওই সময় আমি টাকা দিতে বাধ্য হই। টাকা পেয়ে তারা আমার ছেলেকে গুরতর আহত অবস্থায় ওইদিন সন্ধ্যায় ফেরৎ দিলে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন আহত অবস্থায় আমার ছেলেকে গাজীপুর সদর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো পর আমি নিজে বাদী হয়ে ৬ এপ্রিল ২০২১ ইং অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারীদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। ওই অভিযোগটি থানার এস আই মো. জহিরুল ইসলাম নামে একজন অফিসারকে তদন্ত করার জন্য দেয়া হলে তিনি দীর্ঘ কয়েকদিন বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলেও তা মামলা আকারে না নিয়ে বরং এস আই মো. সানীকে পূণরায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাকে জানান। অফিসার মো. সানী বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকদিন তদন্ত করেন এবং তিনিও সত্যতা পান। কিন্তু তিনিও আমার মামলা না নিয়ে পূণরায় অভিযোগটি থানার এস আই মুঞ্জুরুল ইসলামকে তদন্তভার দেয়া হয়। তিনি গত বেশ কয়েকদিন ধরে বিষয়টি তদন্ত করছেন এবং সত্যতা পেয়েছেন। কিন্তু আজো মামলা নিচ্ছেন না। এব্যাপারে এস আই জহিরুর ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার নামে এমন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য দেয়া হয়নি। এমন কোন তদন্তে আমি কখনো যাইনি, গেলে মনে থাকতো। তাছাড়া আমি ২৩ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছি। ওই ওয়ার্ডে যিনি আছেন তার কাছ থেকে জেনে নিন। এস আই সানী বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, বাদীকে বলেছিলাম বিবাদীদের বাড়িঘর ছিনিয়ে দিতে, তারা নাকি ছিনে না। বাদী একদিন ফোন দিলে পরে খোঁজ থাকে না। বাদীকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েন। ব্যবস্থা করে দেবো। জানেন তো জয়দেপুর থানার অফিসারগন খুব ব্যস্ত থাকে। এব্যাপারে উপরোক্ত অভিযোগটির বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মুঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি পূতিপূর্বে আরো দুজন অফিসার তদন্ত করেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন ওসি তদন্ত স্যারকে দিয়েছেন। কেনো মামলা রেকর্ড হয়নি আমার জানা নেই। আমাকে অভিযোগটির তদন্তভার দেয়ার পর আমি ঘটনার আংশিক সত্যতা পেয়েছি। গত মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) কাউলতিয়া ও বাউপাড়া গ্রামে সাক্ষী নিতে গিয়েছিলাম। ইতিমধ্যে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। বাকিটা তদন্ত স্যারের সাথে কথা বললে জানতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে জয়দেবপুর সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) মো.রাফিউল করিম বলেন, আমার এ বিষয়ে জানা নেই। তাছাড়া এমন ঘটনা হতে পারে না। অপহরণ বা মুক্তিপণ নেয়া হলে নিশ্চয়ই মামলা নেয়া হবে, আসামীও গ্রেফতার করা হবে। আমি আমার অফিসারের সাথে কথা বলে দেখি বিষয়টা কি ?

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী