চীনা আগ্রাসন ঠেকাতে সীমান্তে ভারতের নতুন কৌশল!

Defence Ministry acquires land in Arunachal Pradesh border village

নিরবে ভারতীয় সীমান্তে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে চীন। অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত অঞ্চলে গড়ে তুলেছে আস্ত একটি গ্রাম, উপগ্রহ চিত্রে যা স্পষ্ট ধরা পড়েছে।

দেখা গেছে, সীমান্ত থেকে প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে অরুণাচলের আপার সুবানসিরি জেলায় এই গ্রাম গড়ে তুলেছে চীনা বাহিনী।

গভীরভাবে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এই অঞ্চলটি ১৯৫৯ সালের ২৫ আগস্ট লংজু ঘটনার পর থেকেই চীনা দখলে রয়েছে।

১৯৫৯ সালে প্রথম এখানেই সামনাসামনি যুদ্ধ হয় পিপলস লিবারেশন আর্মি ও ভারতীয় সেনা বাহিনীর। লংজুতে ভারতীয় পোস্টে হামলা চালিয়ে আসাম রাইফেলসের ৪ সদস্যকে যুদ্ধ বন্দি করেছিল চীনা বাহিনী।

এই অঞ্চলটি চীন দখল করার পর তার তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত। প্রতিবাদের মুখে সাময়িকভাবে পিছু হঠলেও ফের এই অঞ্চল দখলে নেয় চীনা সেনাবাহিনী।

২০২০ সালের ২১ নভেম্বর ভারতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি টুইট করেন। তিনি বলেন, ‘‘জাঙ্গানা (চীন অধিকৃত তিব্বতের দক্ষিণ অংশ) সম্পর্কে চীনের অবস্থান ধারাবাহিক এবং স্পষ্ট।

আমরা কখনও চীনা ভূখণ্ডে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত ‘অরুণাচল প্রদেশ’কে আমরা স্বীকৃতি দিতে পারি না। চীনের নিজস্ব ভূখণ্ডে যেকোনও পরিকাঠানো গড়ে তোলা সম্পূর্ণভাবে সার্বভৌমত্বের বিষয়।”

আবার সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর কিয়ান ফেং বলেন, “ভারত ও চীন এখনও এই অঞ্চলের সীমান্তরেখাটি চিহ্নিত করেনি। তাই ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা গ্রাম গড়ে তোলার অভিযোগ তারা করতে পারে না।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত খবরে দেখা যায় তাসরি চু নদীর তীরে একটি গ্রাম গড়ে তোলা হয়েছে। ওই গ্রামে প্রায় ১০১টি ঘর তৈরি করেছে চীনা সেনা। এই ছবিটি ২০২০ সালের ১ নভেম্বর তোলা হয়েছে বলে দাবি।

২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট ঠিক একই এলাকার একটি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে জঙ্গলাকীর্ণ নদীর তীরে জনবসতির কোনও চিহ্ন নেই। কিন্তু আড়াই মাস আগে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে আস্ত একটি গ্রাম।

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়নে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ৭৮৩.৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল ভারত। এর মধ্যে ১৯০ কোটি বরাদ্দ হয়েছিল ভারত-চীন সীমান্তের জন্য।

ভারত মনে করে পর্যটনের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকা খুলে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সীমান্ত এলাকা গোপন করার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ৩৮ তম প্যারালালে না গেলে দক্ষিণ কোরিয়ার সফর সম্পূর্ণ হয় নযা। তাই এখানেই সীমান্তবর্তী এলাকায় পর্যটনের পক্ষেই সওয়াল করেছে ভারত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশের পর্যটন শিল্প কোনও অংশে কম নয়। আর সীমান্তে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কমবে চীনা আগ্রাসন।