গ্রামবাসীর অর্থায়নে সেতু নির্মাণ!

Rangabali

একটি সেতুর অভাবে দু’পাড়ের মানুষের বিকল্প পথে আসা-যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অবশেষে দুর্ভোগ লাগোব করতে গ্রামবাসীর নিজেদের অর্থায়ণে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওই খালগোড়া বাজার সংলগ্ন স্লুইসের খালের ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে সেতুবন্ধনে এখন থেকে কিছুটা দুর্ভোগহীন পারাপার করবে দু’পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে আটদিন ধরে স্লুইসের খালে প্রায় ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করছে গ্রামবাসী। নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়। ইতোমধ্যে সেতু দিয়ে লোকজন পারাপারও হতে শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল মাসুদ, মোশাররফ মোল্লা ও মানিক মৃধা বলেন, ‘একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল এখানকার মানুষ।

কিন্তু কোন সুরহা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের মানুষ এই কাঠের সেতু বানানোর উদ্যোগ নেয়। এতে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তবে আরও কিছু অর্থ ব্যয় করতে পারলে টেকসই করে নির্মাণ করা যেত।’

জানা গেছে, ২০১৪ সালে খালগোড়া বাজারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের ওপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। ওই স্লুইসগেটের পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০১৫ সালে খালগোড়া বাজার ও দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের মাঝ দিয়ে খাল খননে দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ফলে ৬ বছর ধরে তিন কিলোমিটার পেরিয়ে বিকল্প পথ দিয়ে দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগ হতো। এরফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতো দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, পূর্বপাড়ে অবস্থিত দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের মানুষ পশ্চিম পাড়ের খালগোড়া বাজার কিংবা উপজেলা সদরসহ যেকোন প্রান্তে যেতে বাঁধা ছিল স্লুইসের খালটি। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী গন্ডাদুলা গ্রামের মানুষও এই পথ দিয়ে চলাচল করতে না পেরে দুর্ভোগে ছিল।

সেই দুর্ভোগ লাঘব করতে নিজেদের অর্থায়ণে কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন গ্রামবাসী। তাদের দাবি, এই কাঠের সেতু স্থায়ী নয়। তাই খালে সরকারিভাবে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুল কবির জানান, সরকারিভাবে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাহমুদ হাসান,রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)