গাজীপুরের গাছা’য় স্কুল ছাত্র হত্যার বিচার চাইলেন যুবলীগ নেতা জুয়েল

Killing school students

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্তকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত স্কুলছাত্র শাকিল হত্যার বিচার চাইলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও গাছা থানা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী মো. রাশেদুজ্জামান জুয়েল মন্ডল।

নিহত শাকিলকে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কর্মী এবং নিজের অনুসারী দাবী করে তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ স্থানীয় কাউন্সিলর দুলালের ছেলে ও তার বন্ধুরা মিলে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এসময় নিজ কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জুয়েল মন্ডল।

গাছা চেয়ারম্যান বাড়ির নিজ অফিসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে যুবলীগ নেতা জুয়েল মন্ডল জোরালো ভাবে স্কুল ছাত্র শাকিল হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল ও তার ছেলে সাব্বিরের ইঙ্গিতে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে।

যারা ছাত্রলীগ কর্মী শাকিলকে ছুরিকাঘাত করেছে তারা কাউন্সিলরের ছেলের সঙ্গে চলাফেরা করেন। এছাড়া এই চক্রটি খোদ কাউন্সিলরের অফিস এবং অফিসের পাশে বিট পুলিশের অফিসে বসে মামদ ব্যবসা নিয়ন্ত্র করতো বলেও অভিযোগ তুলেন জুয়েল মন্ডল।

এসময় তিনি আরো দাবী করেন, চক্রটি গাছা, কুনিয়া, তারগাছসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ যানবাহন ও ফুটপাতে চাঁদাবাজি, জুট ব্যবসা, সুদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। শাকিল হত্যার পর থেকে ঘটনার সাথে জড়িতদের বাঁচাতে কাউন্সিলর দুলালসহ তার লোকজন বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। জুয়েল মন্ডল আরো বলেন, আমি আমার কর্মী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

যারা এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত, যারা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করে হত্যা রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল সোমবার গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ স্থানীয় কাউন্সিলর দুলালের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী সাব্বিরের সহযোগীতায় দূস্কৃতকারীরা ছুরিকাঘাত করে ছাত্রলীগ কর্মী শাকিল ও তার বন্ধু ফাহিমকে।

ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শাকিল মারা যায় এবং ফাহিম গুরতর আহয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত শাকিল মিয়া ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার ধীপপুর এলাকার দরিদ্র মো. রেজাউল করিমের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের গাছা থানাধীন কুনিয়াপাছর এলাকার রুবেল মোল্লার বাসায় ভাড়া থাকতেন। শাকিল স্থানীয় প্রতিভা স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্র ছিল।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনার দিন রাতেই হাবিবুল্লাহ (২৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি ছোঁরা ও তিনটি লোহার রড উদ্ধার করেছে। নিহত শাকিলের বাবা এজাজুল ইসলাম বাদী হয়ে গাছা থানায় ঘটনার সাথে জড়িত ১০/১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রজুর পরপরই ওই এলাকার বিট পুলিশের অফিস প্রত্যাহার করেন গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক লোকজন জানান, কুনিয়া পাছর এলাকায় স্কুল ছাত্র শাকিল হত্যান্ডের পর ওই এলাকা থেকে বিট পুলিশের কর্যালয় প্রত্যাহার করেছে পুলিশের উর্দ্ধতণ কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতারকৃত হাবীবুল্লাহ ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলালের পরিবারের সদস্য হিসেবে এলাকায় পরিচিত। কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলালের ছোট ছেলে সাব্বিরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী হাবীবুল্লাহ ও তার সহযোগীরা বিট পুলিশের ওই কার্যালয়ে নিয়মিত আড্ডা দিয়ে এলাকায় মাদক কারবার, ফুটপাতে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতো বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। এব্যাপারে গাছা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, স্কুল ছাত্র শাকিল হত্যাকান্ডে জড়িত সন্ত্রাসীরা যতই শক্তিশালী হোক না কেনো-কোন রক্ষা পাবে না। এ হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত একজনকে ইতিমধ্যেই আমরা গ্রেফতার করেছি। অন্য আসামীদেরকের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়াও মামলাটি উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও তদন্ত করছেন।

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী