গাছে ঝুলন্ত প্রেমিকের লাশের পাশে বসে কাঁদছিল প্রেমিকা

The lover was sitting next to the body of his lover hanging in the tree and crying

জঙ্গলে টিলার ঢালে খুঁটির মতো মরা একটি গাছ । এই গাছেই টি-শার্ট দিয়ে তৈরি করা ফাঁসে ঝুলছিল যুবকের লাশ।লাশের পাশে বসে কাঁদছিল এক কিশোরী। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারত সীমান্তের কাছে এওলাছড়া পানপুঞ্জির কাঠালঝুম পানঝুম এলাকা এমনই ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ওই যুবক ও কিশোরী সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকা। তাদের নাম অ্যানি আক্তার (১৬) ও শিপন মালাকার (১৯) বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে অ্যানি মুসলমান ও শিপন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) তারা বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন। শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) তাদের ওই অবস্থায় সীমান্ত অঞ্চলটিতে দেখতে পান স্থানীয়রা।

শিপন মালাকারের বাড়ি কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে।

লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের লাশের পাশে ওই কিশোরীকে পাওয়া যায়। পুলিশ লাশের সঙ্গে তাকেও উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে শিপনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) থেকে শিপন মালাকার ও অ্যানি আক্তার নিখোঁজ হন। তাদের পরিবার খোঁজ না পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশকে অবহিত করে।

সকালে স্থানীয় লোকজন মারফত পুলিশ খবর পায় সীমান্তে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় যুবকের লাশ ঝুলে থাকতে দেখেন। পাশে বসে কিশোরী অ্যানি কান্নাকাটি করছিল।

কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহসিন তালুকদারসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। খবর পেয়ে তাদের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শনাক্ত করেন।

লাশের পাশে অবস্থানরত কিশোরী অ্যানি আক্তার জানায়, শিপনের সঙ্গে তার ২ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। শুক্রবার বিকেলে সে বাড়ি থেকে রাগ করে করে বের হয়ে শিপন মালাকারের সঙ্গে ঘর ছাড়ে।

কর্মধা ইউনিয়নের এওলাছড়া পানপুঞ্জি এলাকায় আসেন তারা। ততক্ষণে রাত হয়ে যায়। গহীন বনে হাঁটতে গিয়ে সে পা ফসকে টিলার নিচে পড়ে যায়। সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ভোরে যখন তার জ্ঞান ফেরে তখন ওপরে উঠে শিপনের লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলতে দেখে।

আরও পড়ুনঃ ভাগ্নির সাথে অবৈধ সম্পর্ক জেনে ফেলায় শ্যালিকাকে খুন

কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহসিন তালুকদার জানান, লাশের গায়ে অন্যকোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পরনের সোয়েটার দিয়ে গলার সঙ্গে ফাঁস লাগানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ছেলেটি আত্মহত্যা করেছেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভুষন রায় জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠানো হবে।