কালিয়াকৈরে সুদের টাকা আদায় করতে মা-মেয়েকে গাছে বেধে নির্যাতন - Metronews24 কালিয়াকৈরে সুদের টাকা আদায় করতে মা-মেয়েকে গাছে বেধে নির্যাতন - Metronews24

কালিয়াকৈরে সুদের টাকা আদায় করতে মা-মেয়েকে গাছে বেধে নির্যাতন

Tongi
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মা ও ১০ম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পাষবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পাওনাদারদের পাশবিক নির্যাতনে বিধবা মা ও মেয়ে গুরতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে ভূক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নিজেদের বাঁচাতে ৯৯৯-এ এবং ১০৯-এ ফোন করা হলেও পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে যায়নি।
আহতরা হলেন- কালিয়াকৈর উপজেলার সিরাজপুর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে মাহবুবা আক্তার ঝুমা (১৬)। ঝুমা মনিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুলের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছর আগে মমতাজ বেগমের স্বামী আব্দুর রশিদ ফুসফুস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর মমতাজ বেগম তার একমাত্র মেয়ে ঝুমাকে নিয়ে বনের জমিতে বসবাস করে আসছে। এছাড়া তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করে অনেক কষ্টে মেয়ে ঝুমাকে লেখাপড়া করিয়ে আসছেন। নানা অভাব-অনটনের মধ্যে কোন রকমে তাদের সংসার চলে। কিন্তু তাদের সংসারে হানা দেয় একটি প্রতারক চক্র। ওই চক্রের ফাঁদে পড়ে স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক প্রায় ৩ লাখ টাকা ঋণ গ্রস্থ হয়ে পড়ে বিধবা মমতাজ বেগম। পরে তাকে বাধ্য হয়ে স্থানীয় গফুর ড্রাইভার ও মনির হোসেনের পরিবারসহ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিতে হয়। এরই মধ্যে প্রায় দুই মাস কাটতে না কাটতেই সুদ খোররা সুদের টাকা আদায় করতে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিতে ওই অসহায় পরিবারকে। এ বিষয় নিয়ে চলতি মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদার মধ্যস্থতা করে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় বেধে দেন। কিন্তু বেধে দেওয়া সময় শেষ না হতেই সুদারু গফুর ড্রাইভার, তার স্ত্রী কুলসুম বেগম, ছেলে রিপন হোসেন এবং সুদারু মনির হোসেনসহ তার স্ত্রী শিল্পী বেগম, মেয়ে মুক্তা আক্তার, ছেলে শহিদ হোসেন, স্থানীয় নয়ন হোসেন  বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিধবা মমতাজ বেগমের বাড়ি ঘেরাও করে। এসময় তারা সুদের টাকা আদায় করতে বিধবা মমতাজ বেগমকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকে। মাকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে ১০ম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে ঝুমা এগিয়ে গেলে তাকেও একই গাছে বেধে রাখে পাষন্ডরা। এ করুণ দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে মমতাজের ছোট বোন মেহেরিন সুলতানা নুরমিনকেও তারা গাছের সঙ্গে বাধার চেষ্টা করেন। তাদের মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেধে প্রায় ঘন্টাখানেক পাশবিক নির্যাতন চালালেও কেউ এগিয়ে আসেনি। দৌড়ে কোন রকমে পালিয়ে গিয়ে নুরমিন প্রথমে ৯৯৯ এবং পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ফোন দেন।
নির্যাতিতরা জানান, ৯৯৯-এ এবং ১০৯-এ ফোন দিলেও কোন পুলিশ আমাদের উদ্ধার করতে যাননি। এমনকি স্থানীয় ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জামাল উদ্দিনকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। পরে ওই ইউপি সদস্য বিধবা মা ও মেয়েকে উদ্ধার করলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে ওইদিন সন্ধ্যায় বিধবা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী বিধবা মমতাজ বেগম বলেন, একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা হারিয়েছি। ওই টাকা যোগাড় করতে গফুর ডাইভার ও মনির হোসেনের পরিবারসহ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদ করতে হয়েছে। ওই টাকা ফেরত দেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম আমাকে আগামী এক মাসের সময় দিয়েছেন। আমি ওই টাকা ফেরত দিবো। কিন্তু ওই সময় শেষ হওয়ার আগেই তারা বাড়ি ঘেরাও করে আমাকে ও আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেধে পাষবিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমাদের বাঁচাতে আমার ছোট বোন ৯৯৯-এ কল দিলেও পুলিশ আমাদের উদ্ধার করতে আসেনি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত গফুর ডাইভার জানান, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা। আমি মারি নাই, আমি জানিও না। অপর অভিযুক্ত মনির হোসেনের মোবাইলে ফোন দিলে রিসিভ করে তার মেয়ে মুক্তা। তিনি বলেন, উল্টো মমতাজ বেগমরাই আমাদের মারধর করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম সিকদার জানান, ঘটনা শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেধে তাদের মারধর করছে। পরে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করি। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক।
ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ৯৯৯-এ থেকে ফোন আসলে স্থানীয় মেম্বারকে পাঠানো হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী
Share