কারাগারে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু

A three-day online training on stress management for prison officers and employees

জিআইজেড বাংলাদেশ, ও কারা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং বৃটিশ ও জার্মান সরকারের যৌথ অর্থায়নে রুল-অফ-ল প্রোগ্রামের অধীনে কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী অনলাইন প্রশিক্ষন ১৭ই জানুয়ারি ২০২১ তারিখে শুরু হয়েছে।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোঃ খাইরুল আলম শেখ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ মোমিনুর রহমান মামুন এবং প্রমিতা সেনগুপ্ত, হেড অব প্রোগ্রাম ‘রুল অব ল’, জিআইজেড। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য ও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ খাইরুল আলম শেখ বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার পৃথিবীকে এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভীতি থেকে অবসাদে ভোগা, মনের উপর বাড়তি চাপ পড়া, হতবিহ্বল হয়ে পড়া, আতঙ্কিত হওয়া বা রেগে যাওয়া স্বাভাবিক। কারাগারে কর্মরত কারা-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মানসিক চাপ আরো বেশী। বিপুল সংখ্যক কারাবন্দী ও কারাকর্মীরা করোনাকালীন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বেশী রয়েছেন।

কারা-কর্মীগণ সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে করোনা মোকাবেলায় বেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সময় উপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে করোনা মহামারীর শুরুতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কারা অধিদপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের কারাগারসমূহ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক এই প্রশিক্ষণ দেশের সব কারাগারে প্রদান করার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ সব সময় সচেষ্ট থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ মোমিনুর রহমান মামুন বলেন যে, ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি বিভাগের একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে যে ৩০০ কারাবন্দীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তাঁদের মধ্যে ১৪৩ জন সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন। জটিল এই রোগটি ছাড়াও ৯৬ জন বাইপোলার মুড ডিসঅর্ডার ও ১৭ জন সাইকোটিক ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন।

এর বাইরে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, মেন্টাল রিটারডেশন, সাবস্টেন্স রিলেটেড ডিসঅর্ডার ও পারসোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন অন্যরা। কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় কারা অধিদপ্তর দেশের ৬৮টি কারাগারে করোনা মোকাবেলায় সময়ে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেছে এবং এগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করার জন্য অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর কারাভ্যন্তরে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও সাধারণ কর্মীদের কোভিড-১৯ প্রতিরোধে করণীয় ও মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। উক্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশক্রমে আজকের এই মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ এবং এটি শুধু ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগারেই নয়, বরং দেশের সকল কারাগারে কিভাবে প্রদান করা যায় তার উদ্যোগ নেয়া হবে।

জিআইজেড বাংলাদেশ ‘রুল অব ল’ প্রোগ্রামের হেড অব প্রোগ্রাম প্রমিতা সেনগুপ্ত বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি আমাদের দেশে নিষিদ্ধ বিষয় বা এটা নিয়ে কথা বলতে অনেকেই দ্বিধা বোধ করেন। অথচ আমরা জানি যে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে আমরা কোন কিছুই ঠিক মতো করতে পারবোনা।

আমরা জানি সরকার কারাগারকে সংশোধনাগারে পরিনত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং নতুন কারা আইন প্রনয়নে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি কারা বিভাগের প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন যা অচিরেই কারা অধিদপ্তর বিবেচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশিক্ষণটিতে বিশেষজ্ঞ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্টগণ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করবেন । উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্য সেক্টর, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তত্ত্বাবধানে তিনটি ব্যাচের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণটি প্রদান করা হবে।