কাউখালীতে শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ সোসাইটির বিরুদ্ধে অনিয়য়েম অভিযোগ

pirojpur

কাউখালীতে শিক্ষক কর্মচারী কল্যানের নাম করে শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ প্রতিষ্ঠা করে। সমিতির সকল কিছু পরিচালনা করেন শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

যেখানে শিক্ষকরা সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে, সেখানে উল্টো ঋণ গ্রহণ করে অতিরিক্ত সুদের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেক সদস্যই এখন নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরকম একটি অভিযোগ জেলা সমবায় কর্মকর্তার নিকট দাখিল করেন আমরাজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কবিতা আক্তার। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন সমিতি মনগড়া আইন বানিয়ে নিজ সুযোগ সুবিধার জন্য অতিরিক্ত সুদের মেশিন বসিয়েছে। সমিতির সদস্যদের অধিকার রক্ষায় কোন কাজ করেনি। ঋণ বীমা, প্রিমিয়াম, ব্লাংক চেকসহ বই, মিউচুয়াল প্রিমিয়াম, সমবায় আইন ও বিধি বিধান পরিপন্থি কার্যক্রমসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, সমিতির সদস্যদের নিকট থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সদস্যদের সর্বশান্ত করেছে। কবিতা আক্তার তার লিখিত অভিযোগে এসব কথাগুলো বলেন। তিনি ২০১৭ সালে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সমিতি থেকে ঋণ গ্রহণ করে ৩ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা প্রদান করার পরেও সমিতি তার কাছে আরো ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা দাবী করে। এতে ঐ শিক্ষক ও তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি সুদ মওকুফের জন্য এবং তার দেয়া সই করার সাদা চেক ও পাতাসহ বই ফেরত চেয়ে জেলা সমবায় অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেন। আবেদনের সূত্র ধরে উপজেলা সমবায় অফিসার ও সহকারী পরিদর্শকের সমন্বয়ে ২ সদস্যের তদন্ত কমিটি সমিতির সকল বিষয় তদন্ত করেন। তদন্তে সমিতির সদস্যদের নিকট থেকে ভয়াবহ তথ্য খুঁজে পান তদন্ত কমিটি। একপর্যায়ে জানতে পারেন কেউন্দিয়া নেছারিয়া দাখিল মাদরাসার অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ সাইফুল জানান, তিনি সমিতির শুরুতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ১ বছরের মধ্যে সুদ আসলে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ঋণের নাম থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এরকম প্রতিটি সদস্যই কোন না কোনভাবে প্রতারিত হওয়ার কথা তদন্তের কমিটি জানতে পেরেছেন। ওই সমিতির ম্যানেজার সুরেশ বালার কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি সন্ধ্যায় দেখা করে কথা বলবো বলে ফোন রেখে দেন। সমিতির সভাপতি শামসুর রহমান বলেন বিধি মোতাবেক সমিতির কার্যক্রম চলমান আছে। সমিতির নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে তদন্ত হয়েছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে এখনো কিছু অবহিত করে নাই। এ ব্যাপারে উপজেলা সমবায় অফিসার হাসান রকি জানান, অভিযোগকারী সে সকল বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেছেন, তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা সমবায় কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনে ১৯ টি বিষয় অনিয়মের তথ্য চিত্র তুলে ধরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ১-২ দিনের মধ্যে কারণদর্শানো নোটিশ পাঠানো হবে এবং উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নিকট তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে মতামত চাওয়া হবে।

নাজমুল হাসান,পিরোজপুর ও কাউখালী প্রতিনিধি

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap