কাউখালীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশক প্রয়োগে কয়েক লক্ষ টাকার ফসল নষ্ট

pirojpur jila

কাউখালীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশক কৃষি জমিতে প্রয়োগ করায় ইরি ব্লকের ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করে কৃষকরা ১১ একর জমিতে ইরি ধানের চারা রোপন করেছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রোপণের পর চাড়াগুলোতে যখন ধানের শীষ আসার সময় হয়েছিল ঠিক তখনই সার ও কীটনাশক দিয়েছিলেন রোগমুক্ত ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য।

কিন্তু বিধিবাম ভালো ফসলের পরিবর্তে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের পর দ্#ু৩৯;একদিনের মধ্যেই গাছের চারাগুলো হলুদ হয়ে ৫ একর জমির ধানের গাছগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

অপরদিকে বাকি ছয় বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন ভালো এবং সুন্দর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বেশি ফলন অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রশাসন।

সেই সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানেনই না যে তার কর্মস্থলের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে কৃষি জমি তৈরি করে একজন ভেজাল ঔষধ বিক্রেতা ভুলের কারণে কৃষকদের ৫ একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে দিশেহারা হয়ে পডেছেন কৃষকরা।

সব নষ্ট হয়ে গেছে একজন দুর্নীতিবাজ ভেজাল কীটনাশক বিক্রেতার কারণে। কৃষকরা সুদে টাকা এনে তাদের জমিতে চারা লাগিয়েছিলেন কিভাবে তারা মানুষের পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন এই প্রশ্ন তাদের।

তারা আরো জানান ধানের চারা মরে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখতে পান যে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল তাহা ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ। আর এই মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ গুলো বিক্রি করেছিল কাউখালী উপজেলার দক্ষিণ বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রেতা বাসুদেব কুন্ডু।

সুকৌশলে ঔষধ গুলি জমিতে দেওয়ার পূর্বে বাসুদেব কুন্ডু নিজেই সরোজমিনে জমিতে যায় এবং ঔষধ প্রয়োগের সহযোগিতা করে।যার ফলে কৃষকরা বুঝতে পারি নাই যে ওষুধগুলো ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ।

কৃষকদের কথার সূত্র ধরে বাসুদেব কুন্ডু কে জানতে চাইলে তিনি জানান কৃষকদের সাথে তার একটি ফয়সালা হয়েছে যা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মধ্যস্থতা করে দিয়েছেন।

ঔষধগুলোর সঠিক ছিল না কেন জানতে চাইলে তিনি জানান সে এবং তার সহযোগী বিক্রেতা ঢাকায় ছিলেন যে কারণে দোকানে তার ভাইয়ের ছেলে পরিচালনা করেন সে ওষুধ সম্পর্কে বুঝে না যে কারণে সমস্যা হয়েছে।

উপজেলার চিরাপাড়া ইউনিয়নের কেশোরতা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক চান মিয়ার পুত্র মাহমুদ হোসেন,কৃষক অনিল এবং জাকির হোসেন জানান সার এবং কীটনাশক এর মান ভাল ছিলনা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিলো।
কীটনাশক বিক্রেতা বাসুদেব কুন্ডু কৃষকদেরকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলেছেন। ২ লাখ টাকা খরচ করে বাড়িত লাভের আশায় জমি চাষ করে সবকিছু হারিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কিভাবে কর্জ পরিশোধ করবেন তা তারা জানেন না।

আর যেন কোন কৃষক হয়রানি না হয় সেজন্য ন্যায় বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করবেন বলে দাবি করেছেন তারা।

এছাড়া কৃষি অফিসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের রয়েছে নানা অভিযোগ সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনার লক্ষ লক্ষ টাকা শুধু কাগজে- কলমে বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে অধিকাংশ প্রণোদনার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

বাদাম, ভুট্টা, গম, তরমুজ, সূর্যমুখী ফুল, মুগ ডাইল, খেসারি ডাল সহ বিভিন্ন কৃষি উৎপাদনের জন্য সরকার ভর্তুকি প্রদান করে থাকেন কিন্তু লক্ষ লক্ষ টাকার বরাদ্দ আসলেও সরোজমিনে কৃষকরা কোন সুফল পাইতেছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া কৃষি কর্মকর্তা আলী আজম শরীফ তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে প্রতিদিন কাউখালী অফিস থেকে বরিশালের বাসায় যাওয়া-আসা করেন যা সরকারি আইনের পরিপন্থী।
কাউখালীতে দুটি সারের লাইসেন্স থাকলেও এই সার সঠিকভাবে কৃষকরা ন্যায্য দামে পায়না বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ১৬ টাকা মূল্য থাকলেও ২০ টাকায় কিনতে হয় কৃষককে এমন অভিযোগ করেছেন কৃষকরাই।

এছাড়াও এই লাইসেন্সের সার গোপনে বিক্রি করা হয় বল অভিযোগ উঠেছে তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হয়না। অন্যদিকে কীটনাশকের দোকানে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত লোক ছাড়াই বেচাকেনা হচ্ছে কীটনাশক।

এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা আলী আজম শরীফ জানান, এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না তবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এনামুল হক, পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি