কাউখালীতে প্রকল্পের ৮৩ লক্ষ টাকা ফেরত,কর্ম বঞ্চিত ১ হাজার হতদরিদ্র

KAUKHALI NEWS

কাউখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানরা সময়মত প্রকল্প দাখিল না করা এবং কম মূলে শ্রমিক না পাওয়ার অজুহাতে অতি দরিদ্রদের ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের ৮৩ লক্ষ টাকা ফেরত পাঠিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

জানা গেছে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৯৭৪ জন শ্রমিক অতি দরিদ্র কর্মসৃজন কর্মসূচীতে নিয়মিতভাবে কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করত। সামান্য টাকা হলেও এই টাকায় তাদের ছোটখাটো সংসারের ঝামেলা, বাজার-ঘাট, শিশুদের লেখাপড়ার খরচ মিটে যেত।

টাকা ফেরত যাওয়ায় তাদের এই দুঃসময় দারুনভাবে কষ্ট পেতে হচ্ছে। প্রকল্প কাজের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বরা। ঠিক সেইদিনই ইউপি চেয়ারম্যান শ্রমিকের তালিকা জমা দেন। যার কারনে সময়মত তালিকা না পাওয়ায় প্রকল্প অনুমোদন করা যায়নি বলে টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানান।

৯৭৪ জন শ্রমিকের মধ্যে ১নং সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ১৫৯ জন, ২নং আমরাজুড়ি ইউনিয়নে ১৩৯ জন, ৩নং কাউখালী সদরে ৩০৯ জন, ৪নং চিরাপাড়া
পারসাতুরিয়া ইউনিয়নে ১৯২ জন এবং ৫নং শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে ১৭৫ জন তালিকাভূক্ত শ্রমিক রয়েছে।

এই সকল অতি দরিদ্র শ্রমিকদের শারিরীকভাবে তেমন বড় ধররেন কাজকর্ম করার শক্তি ও যোগ্যতা নেই। তাই এ সব অসহায় পরিবারদের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচীর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তায় জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।

আরও পড়ুনঃ নোয়াখালী সুবর্ণচরে অনুপস্থিত বন্দোবস্ত’র বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের ঝাড়– মিছিল ও মানববন্ধন

অথচ কর্তৃপক্ষ সময়মত প্রকল্প দাখিল না করতে পারায় তাদের ভাগ্যে হতাশা নেমে এসেছে। উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি এম সাইফুল ইসলাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যানরা তালিকা দিতে আগ্রহী নয় এবং শ্রমিকরা কম পয়সায় কাজ না করার অজুহাতে এ প্রকল্পের টাকা ফেরত পাঠাতে হয়েছে।

এ প্রকল্পে একজন শ্রমিক ২ শত টাকা প্রতিদিন ধার্য এর মধ্যে থেকে ৫০ টাকা সঞ্চয়ী কাটার পর ১ শত ৫০ টাকা করে হাতে পান তারা।এ ব্যাপারে কাউখালী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মিল্টন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানান প্রত‍্যন্ত অঞ্চলের রাস্তা গুলোর বেহাল অবস্থা, অধিকাংশ রাস্তায় কাজ করা খুবই প্রয়োজন। যথাসময়েই তালিকা দেওয়া হয়েছে শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে হতাশ।

এনামুল হক,পিরোজপুর প্রতিনিধি