একজন হানিফের গল্প - Metronews24 একজন হানিফের গল্প - Metronews24

একজন হানিফের গল্প

shohel ahmed bhuiyan

কেনা চায় নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে। মানুষের এই ছােট জীবনে থাকে নানান রঙের ছোঁয়া। জীবনের এ রঙের মধ্যে অন্যতম রং হচ্ছে পেশা বা কর্ম। মানুষ কর্মের মাধ্যমে তার জীবিকা নির্বাহের প্রধান শক্তি পায়।

আমাদের পৃথিবীতে বহু ধরনের পেশা বা কর্ম রয়েছে। যেমন কেউ ব্যবসায়ী সে সারাদিন তার লাভ-লোকসান নিয়ে ব্যস্ত আবার কেউ চাকরিজীবী সে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ মােতাবেক কাজ সম্পন্ন করতে ব্যস্ত।

মানুষ তার জীবনের প্রয়ােজনে নিজের পেশা পরিবর্তন করে থাকে। কেউ ব্যবসায়ী থেকে চাকরিতে যােগদান করে আবার কেউ চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। যার পিছনে কাজ করে মানুষের ইচ্ছে ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা।

ঠিক এমনই একজন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শনগর এলাকার মাে. হানিফ মিয়া। যিনি প্রাইভেট কার চালক থেকে আজ এলাকায় জনপ্রিয় একজন চা বিক্রেতা। ৯ বছর আগেও হানিফ ছিলেন একজন প্রাইভেটকার চালক। তবে তিনি চালক পেশায়
তার পরিতৃপ্তি পায়নি! তার অনেকদিন থেকেই স্বপ্ন, সে এমন কিছু করবে যাতে সে নিজেই নিজেকে সকলের কাছে পরিচিত করে তুলতে পারে। হানিফ মনে করতেন প্রাইভেট কারের চালকের পেশায় সে বন্দী, নিজ ইচ্ছার প্রতিফলন নেই এখানে। তাই সে তার পেশা পরিবর্তন করে চালু করে দিলেন চায়ের দোকান।

হানিফ তার চায়ের দোকান চালাচ্ছেন প্রায় দশ বছর হতে চলেছে।এতদিনে সে তার চায়ের কৃতিত্বে আশেপাশের এলাকায় পরিচিত। হানিফের দোকানে সাধারণত রং চা, দুধ চা, মালটা চা, গুড়ের চা, পুদিনা পাতার চা, বাদামী চা, কফি চা, তেঁতুল চা ও আম চা পাওয়া যায়।
তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জলপাই চা। তাই সবার কাছে হানিফের দোকানের নাম জলপাই চায়ের দোকান হিসেবেই বেশি পরিচিত। হানিফের দোকানের চা খেতে দূর দূরান্ত থেকে চা পাগলরা আসেন, যাদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা বেশি। সবার ইচ্ছা শক্তি যদি হানিফের মতো হতো তাহলে তারাও নিজেরাই নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতো।

সোহেল আহমেদ ভূঁইয়া,নারায়ণগঞ্জ

Share