ঈদ উপহারে অভিভূত প্রতিবন্ধী ছালেক মিয়ার পরিবার!

Tanvir Chowdhury

মানুষের দুঃখ কষ্টে সহমর্মিতার হাত মানুষই প্রসারিত করবে, এটাই প্রকৃতির বিধান। এরই পুনরাবৃত্তি হলো শায়েস্তাগঞ্জের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছালেক মিয়ার পরিবারের বেলায়।

ঈদকে সামনে রেখে উপহার পেয়ে প্রতিবন্ধী ছালেক মিয়ার পরিবার আবেগাপ্লুত। ‘শায়েস্তাগঞ্জে রোদ বৃষ্টিতে ছুটে চলে যে চেয়ার’ শিরোনামে একটি মানবিক প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন মানবিক উপহার পেয়েছেন প্রতিবন্ধী ছালেক মিয়া।

জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলতাব আলীর ছেলে মো. ছালেক মিয়া। দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছিলেন তিনি। পরিবহন সংকটের কারণে ঠিকমত সাহায্যের জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যেতে পারছিলেন না তিনি।

তার এ দুরাবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে দুইজন বিশিষ্ট দাতা তার প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সুদূর ইউকে থেকে নগদ দুই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ইউকের সাধারণ সম্পাদক আব্দুছ সালাম সবুজ। প্রবাস থেকে আফজাল খান নগদ এক হাজার টাকা ও তার পরিবারের পাঁচজনকে দেয়া হয়েছে নতুন জামা কাপড়।

ঈদের পূর্বদিন প্রতিবন্ধী ছালেক মিয়ার হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে এসব মানরিক সহায়তা সামগ্রী। ঈদ উপলক্ষে উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ছালেক মিয়া বলেন, ‘আমি ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি আমাকে সহযোগিতা করা হবে। এবারের নতুন জামা কাপড় আমার পরিবারের জন্য স্বপ্নের মতই ছিল।’

চোখেমুখে তৃপ্তির হাসি দিয়ে তিনি জানান, ‘কৃতজ্ঞতার ভাষা আমার জানা নেই।’আর ছালেক মিয়ার স্ত্রী মাফিয়া বেগম অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘যারা আমাদের সাহায্য করেছে আল্লাহ যেন তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করেন।’

উল্লেখ্য, রোদ, ঝড় বৃষ্টিতেও সমান তালে শহর, গ্রাম কিংবা অলিগলিতে হুইলচেয়ারে ছুটে চলেন প্রতিবন্ধী আব্দুল ছালেক মিয়া। ওই হুইলচেয়ারের পেছনে ধরে ধাক্কা দিয়ে সচল রাখেন একজন নারী তার স্ত্রী মাফিয়া আক্তার।

হুইলচেয়ারে বসা শারিরীক প্রতিবন্ধী একজন মানুষ। যার নাম মো. আব্দুল ছালেক। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের সুতাং বাজার সংলগ্ন মদনপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী মো. আব্দুল ছালেক জীবন যুদ্ধে এক লড়াকু সৈনিক। আর এ যুদ্ধে তাঁর প্রধান সহযোগী তার স্ত্রী মাফিয়া আক্তার। তিনি মদনপুর গ্রামের মৃত আলতাব আলীর ছেলে।

আব্দুল ছালেক জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। একসময় গায়ে জোর ছিল, নিজেই গাড়ি ঠেলে বাজারে বাজারে ভিক্ষা করতেন। এখন বয়স হয়েছে গায়ে চলে এসেছে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা। বিয়ের পর থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন তার স্ত্রী মাফিয়া আক্তার। আর এ ভাবেই বিরামহীন চলছে তাঁর জীবনের চাকা।

মোজাম্মেল হায়দার, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)