ইবাদত বন্দেগীর মধ্যদিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত

ইবাদত বন্দেগীর মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত

Generic placeholder image
  Ashfak

শৈত প্রবাহকে উপেক্ষা করে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ লাখ লাখ মুসল্লি আর তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্যদিয়ে নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আসগারের মাধ্যমে শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১১ থেকে ১২টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে মাওলানা যোবায়ের অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হচ্ছে। কাঙ্খিত আখেরী মোনাজাত কাকরাইল জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা যোবাযের আহমদ পরিচালনা করবেন বলে জানান, ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরব্বিরা। তাবলীগের ৬ উসূলের (মৌলিক বিষয়ে) উপর বয়ান চলে। বিরতিহীন ভাবে নানা ভাষাভাষীর বয়ান নানা ভাষায় তরজমা করে শোনানো হয় মুসল্লিদের। শনিবার বাদ ফজর মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা ও মাওলানা খুরশিদুল হক রায়বেন্ডের বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের ইজতেমা। বাদ জোহর বয়ান করেন ওমর ফারুক। বাদ আসর মাওলানা জুহারাইল হাসান। বাদ মাগরিব মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা। ভাষান্তরে আছেন মাওলানা জুবায়ের আহমেদ। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে যৌতুকবিহীন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বাদ আসর শীর্ষ মুরব্বিগণ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। বর-কনের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের আসর বসবে। বর বেশে শতাধিক পাত্রের যৌতুকবিহীন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ইজতেমার একটি বিশেষ আকর্ষণ। রাজধানী ঢাকার জিরোপয়েন্ট থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে টঙ্গী তুরাগ নদের তীরে আয়োজন করা হয়েছে এ বিশ্ব ইজতেমার। প্রথম পর্বের আয়োজনে আছেন আলেমওলেমাদের শীর্ষ নেতা মাওলানা যোবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা। প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে রবিবার জোহর নামাজের পূর্বে। তারপর ৪ দিন বিরতি দিয়ে আবার ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নয়া দিল্লির আদি তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি মাওলানা সাদ অনুসারীদের ইজতেমা। ২২ জানুয়ারি রবিবারও থাকছে দ্বিতীয় পর্বেও আখেরী মোনাজাত। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম শনিবার সকালে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, পুরো ইজতেমা ময়দানে আইনশৃঙ্খলাসহ সবকিছু এখন পর্যন্ত পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ ইজতেমা ময়দানে সমবেত হয়েছেন। আমরা প্রত্যাশা করছি, যেহেতু পুরো এলাকাটা নিরাপত্তার ঢেকে দিয়েছি, সুতরাং কোনরকম অনাকাংখিত ঘটনা ঘটবে না। জিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ইজতেমা চলাকালীন কোনও ধরনের নাশকতা রাহাজানির ঘটনা ঘটবে না বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যাতে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হতে পারেন, সবাই মিলেমিশে যেন শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিন শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে ইজতেমা মাঠ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এদিকে ময়দানে আগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে উর্দু হিন্দিতে করা বয়ান বাংলাসহ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করে শোনানো হচ্ছে। বিশ্ব ইজতেমা শুরুর আগের দিন থেকেই মুসল্লিদের আগমনে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে ইজতেমা ময়দান। মুসল্লিরা ময়দানে স্থান না পেয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটপাত ও মাঠের আশেপাশের খোলা জায়গা এমন কী টয়লেট বিল্ডিংয়ের ছাদে অবস্থান নিয়েছেন। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় বিদেশিদের প্রতিটি খিত্তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৭০ দেশের ৭ হাজার ৪২ জন বিদেশি মেহমান মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে এসে পৌছেছেন। আয়োজকরা জানান, বিশ্ব ইজতেমার কর্মসূচির মধ্যে আ’ম ও খাস বয়ান, তালিম, তাশকিল, ছয় উসুলের হাকিকত, দরসে কোরআন, দরসে হাদিস, চিল্লায় নাম লেখানোসহ নতুন জামাত তৈরি হবে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছে, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছেন ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ইজতেমায় আসা যাওয়া দেখভালের মধ্যে রয়েছেন, স্থানীয় এমপি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম প্রমূখ। দ্বিতীয় দিনের ইজতেমাস্থলে মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে শিল্পনগরী টঙ্গী এখন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ আগমন ঢল অব্যাহত রয়েছে। আজ আখেরি মোনাজাতে বেশ কয়েকজন ভিআইপি অংশগ্রহণ করবেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। মুরব্বিদের বয়ান চলাকালে পুরো ইজতেমা ময়দান জুড়ে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। সকালের ঠান্ডা বাতাস ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে মুসল্লিদেরকে অধিক মনযোগ সহকারে বুজুর্গ মুরব্বিদের মূল্যবান বয়ান শুনতে দেখা গেছে। বিদেশী মেহমানরা মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন। বিভিন্ন ভাষাভাষীর মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন মুরব্বি মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শুনান। এ পর্বের দ্বিতীয় দিনেও ইজতেমাস্থলে মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার মসজিদের ইমামদের তত্ত্বাবধানে অগনিত মুসল্লি আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের নিমিত্বে ময়দানে সমবেত হয়ে নফল বন্দেগী ও মাওলানাদের বয়ান শুনছেন। খাস বয়ান ও খুসশি বয়ান : ইজতেমা ময়দানে আগত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে গতকাল খাস বয়ান করা হয়। এসময় উপস্থিত শিক্ষকদের বিভিন্ন মেয়াদে চিল্লায় বের হওয়ার জন্য গুরুত্বপুর্ন বয়ান করা হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র উদ্দেশ্যে খুসশি বয়ান পেশ করা হয়। মাসলেহাল জামাত কামরা: ইজতেমা ময়দানে আগত মুসলিদের নতুন যে কোন সমস্যা সমাধানকল্পে ময়দানের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আশরাফ সেতুর পেছনে মাসলেহাল জামাতের কামরা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বসে ওই জামাতের মুরুব্বিরা উদ্বুত সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। বিশ্ব ইজতেমায় আরও ৩ মুসল্লির মৃত্যু টঙ্গীর তুরাগ তীরে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় আরও তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে ও রাতে ইজতেমার ময়দানে তাদের মৃত্যু হয়। শনিবার (১৪ জানুয়ারি) ফজরের নামজের পর ইজতেমা ময়দানে তাদের জানাজা সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার রাতের মৃতরা হলেন হলেন- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের হেমুবটে পাড়া গ্রামের নুরুল হক (৬৩) এবং গাজীপুর মেট্রো সদর থানার ভুরুলিয়া এলাকার আবু তালেব (৯০) ইজতেমা মাঠে মারা যান। এবং শুক্রবার রাতে আক্কাস আলী (৫০)। তার বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায়। জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে ময়দানের ৪২১নং হালকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আক্কাস আলী। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের চিকিৎসক ইমাম গাজ্জালী বলেন, আক্কাস আলী নামে ওই মুসল্লিকে মত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। এ নিয়ে ইজতেমার প্রথম পর্বে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী আব্দুন নূর, তিনি জানান, আক্কাস আলী বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। ইজতেমা ময়দানের ৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর গেটের ৪২১ নম্বর খিত্তায় অবস্থান করছিলেন। র‌্যাবের চিকিৎসা সেবা : টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আগত মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য জরুরি ফোন নম্বর চালু করেছে র‌্যাব। মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা পেতে জন্য +৮৮০১৭৭৭৭২০০৪৫ এই নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক দিক বিবেচনা করে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেছে র‌্যাব। চিকিৎসা কেন্দ্রে ইজতেমায় আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সার্বক্ষণিক র‌্যাবের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ইজতেমা এলাকায় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা : টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে অবস্থানরত মুসল্লিরা ডায়রিয়া, অ্যাজমা, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই ইজতেমা ময়দানের পাশে থাকা বিভিন্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে এবং টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা ও ভর্তি হয়েছেন। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ হাসপাতলে শুক্রবার দুপুর থেকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৯শ’ মুসল্লি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে বাথজ্বর, মাথা ব্যথা, সর্দি, কাশি, পেটেরপীড়া, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগজনিত কারনে অর্ধশত মুসল্লীকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ৫৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাসুদ রানা। এছাড়া ইজতেমাস্থলের পার্শ্ববর্তী ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে লক্ষাধিক মুসল্লি বিনামূল্যে বিভিন্ন রোগের ওষুধ সংগ্রহ ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার জিয়াকে তার অফিস কক্ষে আটক করে এবং ভয় ভীতি দেখিয়ে আউট সোর্সিং কর্মচারী এবং স্ব-ঘোষিত ওয়ার্ড মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম হৃদয় তার নিজস্ব অফিস করার জন্য একটি রুমের চাবি জোর করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতার: : এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন বিশ্ব ইজতেমার ময়দান ও আশপাশ এলাকা থেকে হকার, পকেটমার চোর, ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যসহ অর্ধ শত অপরাধিকে আটক করে । যৌতুক বিহীন বিয়ে : এবার ইজতেমা ময়দানে বাদ আসর শতাধকি বর- কনের যৌতুক বিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পারস্পরিক সম্মতিতে বরেরা মূল বয়ান মঞ্চের সামনে উপস্থিত হন আর কনেরা নিজেদের গৃহে অবস্থান করেন। বিয়ে শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে খুরমা খেজুর বিতরণ করা হয়। আখেরী মোনাজাতে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে যেসব সড়কে আখেরি মোনাজাত ঘিরে বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক : আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে শনিবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ১০টা থেকে ঢাকাগামী পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার ট্রাফিক আলমগীর হোসেন জানান, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে শনিবার অর্থাৎ মোনাজাতের আগের দিন রাত ১০টা থেকে পরের দিন ২টা পর্যন্ত ভোগড়া বাইপাস থেকে ঢাকাগামী সকল পণ্য পরিবহন করে এমন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে সব গাড়ি না। বিশেষ করে ট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ি যেগুলো যাত্রী পরিবহন বা মুসল্লি যাত্রী নেবে না সেগুলো ভোগড়া বাইপাস থেকে টঙ্গীর দিকে যেতে পারবে না। যাত্রী পরিবহন গাড়ি ও মুসল্লি পরিবহন যান ওই সড়কে ব্যবহার করতে পারবে। তবে সেটা সীমিত পরিসরে। যে সকল মুসল্লিবাহী গাড়ি দেশের বিভিন্নস্থান থেকে এসেছে তাদের ইজতেমা মাঠ থেকে সুন্দরভাবে যানজট মুক্তভাবে বের করে দিতে বিকল্প কোনো সড়ক ব্যবহার করা হবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে আলমগীর হোসেন বলেন, ভোগড়া বাইপাস থেকে ঢাকা বাইপাসের গাড়ি ডাইভারসন করা হবে, মীরের বাজার থেকে উলুখোলা-তিনশ ফিটের দিকে ঢাকার গাড়ি ডাইভারসন করবো। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল রোডে গাড়ি ডাইভার্ট করা হবে, এছাড়াও কামারপাড়া রোড থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ঢাকায় গাড়ি চলবে। তবে সীমিত পরিসরে। উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামীকাল রোববার আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে। এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় পবের ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমা: অজুর পানি বিক্রির অভিযোগ : ইজতেমা শুরুর প্রথম দিন শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে অজুর পানি বিক্রি। ইজতেমা ময়দানে বিপুল পরিমাণ মানুষের অজুর পানির দেখা দিয়েছে সংকট। মহাসড়ক ও বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থানরত মুসল্লিদের অজুর পানির জন্য খরচ করতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। অজুর জন্য এক বদনা পানি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং পানির বোতল বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া রাস্তায় নামাজ পড়ার জন্য পেপার কিনতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে। টঙ্গী স্টেশন রোড ও কামারপাড়া রোডের মাথায় দেখতে পাওয়া যায় শতশত মানুষ এসব পানি বিক্রি করছেন। স্থানীয় দোকানদারসহ আশপাশের লোকজন এই সুযোগ ব্যবসা করছেন। তবে পুরো এলাকা ঘুরে দু-এক জায়গায়তে ফ্রিতে পানি পাওয়া গেলেও চলছে। পানি বিক্রেতারা বলেন, কিছুই করার নেই সবাই বিক্রি করছে আমরাও করছি। এখন এত মানুষ ফ্রি পানি কোথায় পাবো।
মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী
 

মন্তব্য করুন হিসাবে:

মন্তব্য করুন (0)