আলীকদমে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে চোরা কারবারি চক্র, গরু চোরাচালানে জড়িত অনেকে

Bandarban News

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা মায়ানমার সীমান্ত ।দুর্গম পাহাড়, বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল।বেশির ভাগ এলাকা জনমানবহীন, রাস্তাঘাটও তেমন নেই।

জঙ্গলে সন্ত্রাস বাহিনীর আনাগোনা, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে চোরা কারবারি চক্র।এই সুযোগে অনেকেই গরু চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে।ব্যবসার এমন সুযোগ, স্থানীয় টাকা ওয়ালারা হাতছাড়া করছে না।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, স্থনীয় ইউনুছ, রুবেল, ফরিদ, পুতিয়া, রতন ও চকরিয়ার আলী হোসেনসহ কয়েকজন এই কারবারে সাথে জড়িত। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানাযায়, কিভাবে মিডিয়া ম্যানেজ করা যায়; সে সিদ্ধান্ত নিতে এরা ক’জন মিলিত হয়েছে।আলীকদমে সাপ্তাহিক হাটের দিন সোমবার গরুর হাট বসে। হাটে দৃষ্টি কাটার মতন একটি দু’টি করে কয়েকটি পয়েন্টে ব্রাহামা জাতের গরু রাখা হয়। এসব গরু কারো পছন্দ হলে বিক্রেতা ডায়ালগ শুরু করে ঠিক এমনভাবে, “এঁইল্লা আরো সুন্দর ডঁর সাইজর আরো গরু আছে, আঁরো ঘাড়ামমাজে গেলে দেকিত পারিবেন”(!)। শুধু হাটের দিন নয়, আলীকদম উপজেলা যে কোনো দিন ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে এমন কথোপকথন হরহামেশাই হয়ে থাকে। সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানান, স্থানীয় সাধারণ মানুষ।কারা আনছেন এসব বিদেশি গরু(?)। বাজার ইজারাদারের কর আদায়/ ক্রয়-বিক্রয় রশিদ বুকের পাতার কার্বন কপি দিতে পারে সেই হদিস। কারা কত তারিখে কার কার নামে পোয়ামুহুরি, কুরুকপাতা বা অন্য কোনস্থান বা বাজার ক্রয়বিক্রয়ের স্থান উল্লেখ করে কয়টা রশিদ নিয়েছে, চেষ্টা করলে সে তথ্য বের করা কষ্ট হবে না। কারা রশিদ বইয়ের ব্লাঙ্ক পাতা দেয়ার জন্য মুঠো ফোনে অনুরোধ করেছে, সেটা তদন্ত করলে, সবার পরিচয় জানাযাবে । আলীকদম উপজেলাটি ভৌগোলিকভাবে মীয়ানমার সীমান্ত লাগোয়া। এই উপজেলা সীমানার পর আরো দু’টি উপজেলা রয়েছে; নাইক্ষ্যংছড়ি ও থানছি। সে দু’টাও মীয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা। এর ফলে বিস্তীর্ণ জনশুণ্য এলাকা আলীকদম উপজেলার পাহাড়ের বাঁকগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে পাচরকারী সিন্ডিকেট। এই উপজেলার গহীন বনে বিগত ২৫ বছর আগে থেকে গরু পাচারকারীরা সক্রিয় ছিল।দেরিতে হলেও আইনের দৃষ্টিপাত হল তার দিকে। কি অদ্ভুত এক সমিকরণ! ২৫ বছর পরেও সেই একই। তা হলে কি এই সেই চক্রটি বিগত ২৫ বছর ধরে এসব কারবার চালিয়ে আসছিল?এমন প্রশ্নের উত্তর মিলানো কঠিন নয়। বাংলা প্রবাদ আছে ” চোরের দশদিন, গৃহস্থের একদিন” অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, সেই একদিন ধরা দিল। আমাদের প্রভাবশালী বা সমাজপতিদের নগ্নতার দিকে সাধারণত বিধি-ব্যবস্থার দৃষ্টিপাত হয় না। আরেকভাবে বলা যায়,”সারা গায়ে ক্ষত, মলম লাগাবো কত”। সেই দৃষ্টান্তই হয়তো জানান দিল আলীকদমের জঙ্গলাকীর্ণ গিরিপথে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে গত মাসাধিককাল ধরে আসা বিদেশি গরুর জমজমাট আমদানি। অবশেষে সক্রিয় হলো প্রশাসন, ১৮ মে জব্দ হলো গরু,ট্রাক, আটক হল স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী। ধৃত ব্যবসায়ী আইনের ফাঁক ফোঁকরে বের হয়ে এসে, আবারো অন্য কোনো পথে, অন্য কোনো উপায়ে-আরো একটি নির্ঝঞ্ঝাট রাস্তা আবিস্কার করবে এমনটা মন্তব্য করেছেন,স্থানীয়রা।আইন প্রয়োগকারীরা সজাগ থাকলে স্থানীয়দের এমন আশঙ্কা বাস্তব রুপ নিবে না। এদিকে দেশে গরু আসাকে প্রজেটিভ দৃষ্টিতেও দেখছে অনেকে। তারা খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, কোরবানির বাজার স্থিতিশীল থাকবে বিদেশি গরু আসলে(!)।
বান্দরাবন প্রতিনিধি

0 Shares
  • 0 Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn
  • Mix
  • Email
  • Print
  • Copy Link
  • More Networks
Copy link
Powered by Social Snap