আড্ডা গানে মাতুয়া জবির ক্লান্ত দুপুর

Jagannath University news

ক্লাস শেষে যখন জড়ানো মস্তিষ্কে নতুন ফর্মুলারা গিজগিজ করে, বিক্রিয়া সব এলোমেলো হয়ে যায় ঠিক তখন যেন ক্লান্ত দুপুরের আবেগী মন চায় গানের সুরে নিজেকে একটু স্বস্তির বাতাসে প্রশান্তির ছায়া দিতে।
কড়ই গাছের ছায়ায় শান্তির বাতাস যখন বয়, বুড়িগঙ্গার তীরে সদরঘাট অঞ্চলের অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৃপ্তি মেলে গান আড্ডা আর গল্পের রসের হাঁড়ি নিয়ে।
ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার ঠিক সামনেই রফিক ভবনের দোতলায় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বসে শিক্ষার্থীদের জমে ওঠে দারুন আড্ডা।
যেখানে বসে ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে বিজ্ঞান অনুষদের মাঠ কিংবা ক্যাফেটেরিয়ার সামনের সম্পূর্ণ প্রাঙ্গণ পর্যবেক্ষণ করা যায় সেখানে ক্লান্ত বিকেলে অলস মস্তিষ্ক টা যেন পায় প্রশান্তির ছায়া গানের সুরে সুরে অথবা গল্প-আড্ডায়।
প্রসেনজিতের 14 তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দেন একটা অংশ প্রায়ই দেখা যায় ইউকেলেলে গিটার খঞ্জনি কিংবা কখনো খালি গলায় গান গেয়ে তাদের কেটে যায় বাস খেলার আগের অবসর সময়টা। আড্ডার অন্যতম হোতা হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের সামনে মুখ বালা টিএসসির সিঙ্গারা সমুচা। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল ক্যাম্পাসে বসে আড্ডায় অংশ নেয় সিনিয়ররাও।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান ক্যাম্পাসে টি এস সি না থাকায় ছাত্র-শিক্ষকদের মিলনমেলা তেমন দেখা না গেলেও কখনো কখনো আড্ডায় গানের সুরে তাল মেলাতে দেখা যায় অনেক শিক্ষকদেরও। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে এখানকারই শিক্ষক হিসেবে নিযুক্তদের মধ্যে ক্যাম্পাসের আনন্দের রেশ কেটে উঠে না।তাই শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের সুর মেলানো টা যেন প্রানোচ্ছল পরিবেশেরই প্রকাশ।
বর্তামনে এই করোনা পরিস্থিতিতে সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করেই যেন সময় কাটে ঘরে বসা শিক্ষার্থীদের। তাদের কাছে প্রাণোচ্ছল প্রথম ভালোবাসার আরেক নাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
অমৃত রায়,জবি প্রতিনিধি