আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল গণপরিবহন বন্ধ - Metronews24 আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল গণপরিবহন বন্ধ - Metronews24

আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল গণপরিবহন বন্ধ

All public transport is closed until April 7

মহামরি করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

এ সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ফলে অন্যান্য ছুটি মিলে টানা ১০ দিনের ছুটি পাওয়ায় রাজধানীবাসীর অনেকেই পরিবার নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল থেকেই কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ভিড় করতে থাকেন! যে কারণে কমলাপুর রেল স্টেশনে হাজারো মানুষের ভিড়।

বিকেলে সে ভিড় রূপ নেয় ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার মতো ভিড়ে! প্রতিটি কাউন্টারে দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিটের অপেক্ষায়। এমন বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় উঠে।

এ অবস্থায় আজ (মঙ্গলবার) থেকে লোকাল-মেইল ট্রেন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে মঙ্গলবার সকাল থেকে লোকাল-মেইল ট্রেন বন্ধ হচ্ছে।

এছাড়া আগামী ২৬ মার্চ থেকে সকল ট্রেনের টিকিট বিক্রির বন্ধের ঘোষণা আসতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেল মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ আলম।

এছাড়াও করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে আজ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে যাত্রীবাহী নৌচলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুনঃদেশের সব অফিস-আদালত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ছুটি

তিনি বলেন, আজ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে লঞ্চ মালিকরাও একমত হয়েছেন। যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকবে। করোনাভাইরাস সংক্রামণরোধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধের কার্যক্রমে দেশের সব জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাসটি।

এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৮ এবং মারা গেছে ১৬ হাজার ৫১৪ জন। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক লাখ দুই হাজার ৬৯ জন।

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ইতালিতে। ইউরোপের এই দেশটিতে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ৬০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে সেখানে মৃত্যু ছয় হাজার ৭৭। দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ৭৮৯। ফলে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯২৭। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৪৩২ জন।

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে চীনে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ১৭১ এবং মারা গেছে তিন হাজার ২৭৭ জন।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন তিনজন।

করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। এছাড়া মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।