অসহায় পরীক্ষার্থীকে ১০ মিনিটেই কেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন র‌্যাব কর্মকর্তা - Metronews24 অসহায় পরীক্ষার্থীকে ১০ মিনিটেই কেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন র‌্যাব কর্মকর্তা - Metronews24

অসহায় পরীক্ষার্থীকে ১০ মিনিটেই কেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন র‌্যাব কর্মকর্তা

Shamim Anwar

অসহায় পরীক্ষার্থীকে ১০ মিনিটেই কেন্দ্রে পৌঁছে দিলেন র‌্যাব এএসপি শামীম আনোয়ার। পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়ার ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব এএসপি শামীম আনোয়ারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অনেকেই।

জানা যায়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিল শুক্রবার। এ বছর ৭০ হাজার ৫৪৩ শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করে। পরীক্ষা ঘিরে শুক্রবার শহরে ভিড় জমে। অপ্রতুল ছিল যানবাহনের সংখ্যা। সেই সঙ্গে পড়েছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।

এমন অবস্থায় সড়কে আটকে পড়েন এক পরীক্ষার্থী। তার হাতে সময় ছিল মাত্র ১০ মিনিট। এ সময় তার সামনে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসেন র‍্যাব কর্মকর্তা শামীম আনোয়ার। পরে ১০ মিনিটের মধ্যে ওই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেন এই র‍্যাব কর্মকর্তা।

এ নিয়ে শুক্রবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা শামীম আনোয়ার লিখেছেন, ‘নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তার ভর্তি পরীক্ষার্থী মেয়েকে নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৭০ হাজার আগন্তুকের ভিড়ে ভারাক্রান্ত ছোট বিভাগীয় শহরটি ছিল যানজট।

ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কেন্দ্রে প্রবেশের সময় বাকি আর মাত্র ১০ মিনিট।

যে গাড়িতেই চড়ুন, এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছার চেষ্টা করা অসম্ভবের পেছনে ছোটারই নামান্তর। বাবার মনে হয়তো বিষাদমাখা শঙ্কার কালো মেঘ, এতদূর থেকে এসেও শেষপর্যন্ত মেয়েটির আর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া হলো না।’

আরও পড়ুনঃমসজিদের দানবাক্সে ১০৩ দিনে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা

‘স্যার, তাড়াতাড়ি উঠাই, না হলে আমরা টাইম কাভার করতে পারব না’ আমার বডিগার্ড হাসান এই কয়েকদিনে সম্ভবত আমার ভাবনার জগতের নাড়িনক্ষত্রের খোঁজ পেয়ে গেছে।

আমি কি চিন্তা করছি- মুখ খুলে বলার আগেই সে কিভাবে কিভাবে যেন সব বুঝে যায়। নেমে ইশারা দিতেই বাবা- মেয়ে গাড়ির পেছনে উঠে বসল।’ লিখেছেন তিনি।

শামীম আনোয়ার আরও লিখেছেন, ‘ড্রাইভারকে ইমার্জেন্সি সাইরেন বাজিয়ে দিতে বলে প্রায় লাফিয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম আমিও। র‍্যাবের সাইরেন আর ড্রাইভার ইউসুফের প্রাণপণ চেষ্টায় যখন কেন্দ্রে পৌঁছেছি, গেট বন্ধের ঘণ্টা পড়তে তখন আর বাকি মাত্র আধা মিনিটেরও কম।

গাড়ি থেকে নেমেই গেটের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতেই বাবা একবার পেছন ফিরে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। কে জানে, ধন্যবাদ দেয়ার জন্যই কিনা। আমি তাকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পাল্টা ইশারায় দ্রুত গেটের দিকে যাওয়ার তাগাদা দিলাম। হাতে সময় যে খুবই কম।’