অপরাজেয় নারীর প্রতীক

Meherabul Islam Showdip,সাবিনা আক্তার মু

আমরা কণ্যাসন্তান হিসেবে মিষ্টি, আমরা বোন হিসাবে যত্নবান, আমরা প্রেমিকা হিসাবে সুন্দরী, আমরা স্ত্রী হিসেবে প্রিয়তমা, আমরা মা হিসাবে পরম মমতাময়ী, আমরা শক্তির আধার, আমরা নারী।

নারীর ভূমিকা সমাজ সভ্যতার অগ্রযাত্রার ইতিহাসে সমান্তরাল। আজ ৮ মার্চ আন্তজার্তিক নারী দিবসে তাদের এ অবদানকে স্মরণ করছি, জানাচ্ছি শুভেচ্ছা। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে আলাদা করে নারীদের জন্যই শুধু একটা দিন। ভাবতে অবাক লাগলেও এটাই ঠিক। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে এই দিনটিকে বিশেষ ভাবে পালন করা হয়। পৃথিবীর সব নারীর অধিকার রক্ষায় ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে ‘আন্তজার্তিক নারী দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয় এবং তা যথাযথ পালনের জন্য পৃথিবীর সব রাষ্ট্রকে আহ্বান জানানো হয়।

প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৮ মার্চ একটি স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে পালিত হয়ে আসছে। কোনো কোনো দেশে দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবেও পালিত হয়। যেমন রাশিয়া, কিউবা, ভিয়েতনাম, ইউক্রেন সহ বেশ কয়েকটি দেশ। আবার চীন, মেসোডোনিয়া, নেপাল ও মাদাগাস্কার সহ অনেক দেশে এ দিনটিতে কেবল নারীরা সরকারি ছুটি ভোগ করেন। বাংলাদেশে ঠিক তেমনি র‍্যালি, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের মধ্যে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। আজ সারা পুঁজিবাদী বিশ্ব ঘটা করে যে নারী দিবসটি পালন করে তার সৃষ্টি কিন্তু নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের নিরন্তর সংগ্রামে। নারীরা প্রাথমিক ভাবে যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন সেখানে মজুরি বৈষম্য ছিল, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট ছিল না, কাজের পরিবেশ ও ছিল অমানবিক। এসব অবাজক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে নারী শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে পড়ে। আর নারীদের এ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আজ ৮ই মার্চ ‘আন্তজার্তিক নারী দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

নারীর নিরাপত্তা আইনি সুরক্ষা মজবুত হওয়া সত্ত্বেও ধর্ষণ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নানা রকমের সহিংসতা দমনে রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতা ঘোচেনি, বরং ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রকট হয়েছে। পথে ঘাটে ও কর্মক্ষেত্রে তো বটেই, ঘরের ভিতরেও নারীর ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা দূর হচ্ছে না। নারীর প্রতি বিভিন্ন রকম সহিংসতা আমাদের সমাজে একটি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ৭৭ শতাংশ নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে পরিবারের মধ্যে। যে পরিবার ও সমাজের মানুষের ভেতর কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের ভেতর মূল্যবোধ ও নীতি – নৈতিকতার অনুশীলন কম, সেখানকার সম্পর্ক গুলো দিন দিন অস্বাভাবিক ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। বর্তমান অবস্থার কথা চিন্তা করলে দেখা যায় নারীর ধর্ষণের শিকার বেশি হচ্ছে। অপরাজেয় যদি নারীর প্রতীক হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে নারীকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে ভালোভাবে বাঁচার এবং কাজের উপযুক্ত পরিবেশ। নারীর প্রতি নেতিবাচক ও বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গিকে পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে সংশোধন প্রক্রিয়ায় মূল্যবোধের শিক্ষা নিঃসন্দেহে প্রধান অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। আমাদেরকে নারী-পুরুষ সমতার ভিত্তিতে কাজ করলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হবে।

সাবিনা আক্তার মুন্নী
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়