অতঃপর মুখ খুললেন রিফাতের স্ত্রী মিন্নি

Then Rifat wife Minney

শ্বশুর দুলাল শরীফের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছে বরগুনায় আলোচিত হত্যার শিকার হওয়া রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে রিফাত শরীফ হত্যায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত বলে অভিযোগ করেন দুলাল শরীফ।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজ বাড়িতে গতকাল দুপুরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে মিন্নি বলেন, ‘০০৭ গ্রুপ সৃষ্টিকারীরা ক্ষমতাবান ও অর্থশালী।

 

তারা নিজেরা আইনের আওতামুক্ত থাকতে রিফাত হত্যার বিচারকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমার শ্বশুরকে চাপ প্রয়োগ করে এরাই আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে আমাকে হত্যায় জড়িত করার চেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার শ্বশুর অসুস্থ।

 

তিনি ছেলের শোকে বিধ্বস্ত। আর এ সুযোগে প্রভাবশালীরা বিচারের আওতামুক্ত থাকতে তাকে চাপ প্রয়োগ করে আমার শ্বশুরকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন।’

আরও পড়ুনঃ মিন্নির বাবার দাবি, রিফাতের বাবার মাথা ঠিক নেই

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মিন্নি বলেন, ‘আমার স্বামীকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে গোটা দুনিয়ার মানুষ অবলোকন করেছে।

 

সকাল ১০টার দিকে রিফাত আমাকে বলেছিল, তার বাবা দুলাল শরীফ তাদের নিতে এসেছেন। কলেজ গেটে এসে তার বাবাকে না দেখে আবার কলেজে যেতে চেয়েছিল রিফাত।’

 

মিন্নির দাবি, তখনই রিশান ফরাজীসহ হত্যাকারীরা তার স্বামী রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে কলেজের বাইরে রাস্তায় নিয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিল-ঘুষি এবং পরে কোপানো শুরু করে। মিন্নি বলেন, তিনি অস্ত্রধারীদের তোপের মুখেও স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। ভিডিও ফুটেজে মানুষ সে দৃশ্য দেখেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমি মামলার ১ নম্বর সাক্ষী। আমাকে মামলায় জড়িয়ে আসামিরা সুযোগ নিতে চাইছে। আমার শ্বশুরকে ভুল বুঝিয়ে চাপ প্রয়োগ করে প্রভাবশালী ও বিত্তশালীরা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রয়োগের পাঁয়তারা করছে।’

 

তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে এ ঘটনায় মিন্নি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

 

এদিকে গতকাল বেলা ১১টার দিকে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবিতে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়েছে।

 

এতে বক্তব্য রাখেন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ, রিফাতের চাচা আবদুল আজিজ শরীফ, বরগুনা-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মারুফ মৃধা।

 

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে শনিবার রাতে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। উল্লেখ্য, ২৬ জুন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত।

কলেজ থেকে ফেরার পথে কলেজের মূল ফটকে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা।

 

রিফাত শরিফের স্ত্রী দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়।

 

পরে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

 

Comments
0