পা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা জয়ের স্বপ্ন দেখে বেল্লাল!

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের খলিল আকন ও হোসনে আরা বেগমের ছেলে বেল্লাল আকন।

 

জন্মগতভাবেই নেই দু’টি হাত। আবার পা’দুটিতেও রয়েছে জন্মগত ত্রুটি। তারপরও সেই পা এখন তার একমাত্র ভরসা।

চলাচলের সহায়তার পাশাপাশি এই পা দিয়েই সফলতা অর্জন করেছেন ইবতেদায়ি ও জেডিসি পরীক্ষায়। উভয় পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে এখন আর একটা জিপিএ-৫ এর জন্য দিচ্ছেন দাখিল পরীক্ষা।

উমেদপুর দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র বেল্লাল আকন এবার দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের নেছারউদ্দিন সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে।

শারিরীক প্রতিবন্ধী হয়েও মায়ের অনুপ্রেরণায় এগিয়ে চলেছেন তিনি। বিদ্যালয় থেকে শুরু করে গোটা এলাকা জুড়ে মেধাবী ও উদ্যোমী বেল্লালের পায়ের জাদুর গল্প এখন সবাই জানে।

বেল্লালের সহপাঠীরা জানান, সবাই যখন স্বাভাবিক নিয়মে বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দেয় তখন বেল্লাল দু’পায়ে কাঠের বিশেষ আসনে দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দেয়। আর হাত নয় ডান পা দিয়েই লিখে চলে বেল্লাল।

বেল্লালের বাবা-মা জানান, ছেলের দু’টি হাত নেই, তবে হাঁটুবিহীন দু’পা রয়েছে। প্রথমে এ নিয়ে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছিলো। নানা রকমের অপকথা ছড়াতে থাকে গ্রামের লোকজন। এসব কারণে প্রথমদিকে বেল্লালকে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখতেন। পরে এক শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় তার মা ছেলেকে লেখাপড়া করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

 

এরপর থেকেই ঘরে বসে বেল্লালকে পড়াতে আর পায়ের আঙুলের মধ্যে চক দিয়ে সিলেটে লেখা শেখানোর অভ্যাস তৈরি করেন।

এরপর বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের উমেদপুর মাদ্রাসায় তাকে ভর্তি করা হয়। আর এখন তো সেই পা দিয়ে লিখে অসাধ্যকে সাধন করে দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে সে।

মা হোসনে আরা বেগম বলেন, বেল্লাল তার সাহায্য ছাড়া অন্য কোনো কাজ করতে পারে না। তাই দাখিল পরীক্ষার পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য সবাই অন্যত্র চলে গেলেও হয়তো সে শহুরে কোনো ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার জন্য যেতেও পারবে না।

তবে সহপাঠীরা বলছে, বেল্লাল যেখানেই পড়ুক সে ভালো ফলাফল অর্জন করবেই।

বেল্লাল বলেন, ২০০৮ সালে প্রথম শ্রেণিতে পড়া শুরু করার পর বহুবার মাদ্রাসায় যেতে-আসতে আহত হয়েছি, মাথাও ফেটেছে একবার। তারপরও পিছপা হইনি।

loading...

নামাজের সময়সুচী

ফজর ভোর 00:00 মিনিট
যোহর বেলা 00:00 মিনিট
আছর বিকেল 00:00 মিনিট
মাগরীব সন্ধ্যা 00:00 মিনিট
এশা রাত 00:00 মিনিট
সেহরী ভোর 0:00
ইফতার সন্ধ্যা 0.00

আর্কাইভ

নির্বাচিত সংবাদ